Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতবুল আজানঃ নামাজে ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখা

 باب وَضْعِ الْيُمْنَى عَلَى الْيُسْرَى

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ كَانَ النَّاسُ يُؤْمَرُونَ أَنْ يَضَعَ الرَّجُلُ الْيَدَ الْيُمْنَى عَلَى ذِرَاعِهِ الْيُسْرَى فِي الصَّلاَةِ‏.‏ قَالَ أَبُو حَازِمٍ لاَ أَعْلَمُهُ إِلاَّ يَنْمِي ذَلِكَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم‏.‏ قَالَ إِسْمَاعِيلُ يُنْمَى ذَلِكَ‏.‏ وَلَمْ يَقُلْ يَنْمِي‏.‏

পরিচ্ছেদ: নামাজে ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখা

অনুবাদ: হযরত সাহল ইবনে সা‘আদ (রা.) বলেন, নামাজে লোকজনকে ডান হাত বা হাতের কব্জির উপর স্থাপন করার নির্দেশ দেয়া হত। আবু হাযেম বলেছেন, এ কাজটিকে আমি নবী (সা.)-এর কাজ বলেই জানি।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য أَنْ يَضَعَ الرَّجُلُ الْيَدَ الْيُمْنَى عَلَى ذِرَاعِهِ الْيُسْرَى -এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ১০২ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

শিরোনামের উদ্দেশ্য : ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য একেবারেই স্পষ্ট। তিনি এ মাসআলায় জুমহূর আইম্মা তথা ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফেয়ী, ইমাম আহমদ, ইমাম ইসহাক (র.) প্রমুখের সমর্থন ও আনুকূল্য প্রকাশ করছেন। যেহেতু এ মাসআলায় মতপার্থক্য রয়েছে যে, তাকবীরে তাহরীমার সময় যে রফয়ে ইয়াদাইন করা হয়েছিল তারপর নামাজী কি আমল করবে? হাত বেঁধে দাঁড়াবে নাকি হাত ছেড়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে?

ইমাম বুখারী বলতে চাচ্ছেন যে, দলীল ও বুদ্ধি উভয়েরই দাবি হলো হাত বেঁধে দাঁড়ানো উচিত। দলীলের জন্য বাবের হাদীসই যথেষ্ট। আর বিবেক-বুদ্ধির দাবিও হলো আহকামুল হাকিমীন রব্বুল আলামীনের সম্মুখে দাসত্বের প্রমাণ দেওয়ার জন্য প্রয়োজন হলো বিনয়মূলক পন্থা অবলম্বন করা। আর হাত বেঁধে দাঁড়ানো হলো বিনয় ও দাসত্বের বহিঃপ্রকাশের সর্বোত্তম পন্থা। উর্দু কবি বলেন:

قتل كر دالو همين يا جرم الفت بخش دو

لو كهري هين هاته باندهي تمهاري سامني (উর্দুতে লিখতে হবে??????)

“হত্যা করে ফেল, বা ভালোবাসার অপরাধ ক্ষমা করে দাও

এই নাও আমি তোমার সম্মুখে হাত বেঁধে দণ্ডায়মান আছি।”

১. হাত বাঁধার মাসআলা:

১. জমহুর আইম্মা তথা ইমাম আজম আবু হানিফা, ইমাম শাফেয়ী, ইমাম আহমদ, ইসহাক প্রমুখ হাত বাঁধাকে সুন্নত বলেন।

আল্লামা আইনী বলেন: فعندنا يضع وبه قال الشافعي واحمد واسحق وعامة اهل العلم وهو قول علي وابي هريرة والنخعي والثوري (عمدة)

ঘাফিয আসকালানী বলেন: وهو قول الجمهور من الصحابة والتابعين (فتح الباري)

ইমাম মালেকেরও এ মতটি ইবনুল মুনযির উদ্বৃত করেছেন, এবং মুয়াত্তা ইমাম মালিকে এটিই বর্ণিত আছে।

২. ইমাম মালেকের অপর মত যা ইবনে কাসিম বর্ণনা করেছেন যে প্রসিদ্ধ বর্ণনানুসারে ইমাম মালেক (র.) উভয় হাত ছেড়ে দেয়ার প্রবক্তা।

৩.  অপর বর্ণনা হিসেবে তাঁর মতে ফরজ নামাজে হাত ছেড়ে দেওয়া সুন্নত এবং নফল নামাজে হাত বাঁধা সুন্নত। আল্লামা ইবনে রুশদ মালেকী বলেন: فكره ذلك مالك في الفرض واجازه في النفل (بداية المجتهد) ومنهم من كره الامساك ونقل ابن الحاجب ان ذلك حيث يمسك معتمد القصد الراحة (فتح) অর্থাৎ মাকরূহ তখন হবে যদি আরামের উদ্দেশ্যে হাত বাঁধে।

২. দ্বিতীয় মাসআলা হচ্ছে হাত বাঁধার পদ্ধতি সম্পর্কে: হানাফীদের মতে সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো ডান হাতের হাতের তালু বাম হাতের পিঠের উপর রেখে ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও কণিষ্ঠাঙ্গুলি দ্বারা বাম হাতের কব্জি ধরবে। আর মাঝের তিনটি আঙ্গুল বাম হাতের উপর রাখবে।

৩. তৃতীয় মাসআলা হচ্ছে, হাত কোথায় বাঁধা হবে? এটিও একটি মতভেদপূর্ণ মাসআলা যে, হাত নাভীর নিচে বাঁধবে নাকি বুকের উপর নাকি বুকের নিচে?

    হানাফী ওলামায়ে কেরাম, সুফিয়ান ছাওরী, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহি (র.) -এর মতে হাতকে নাভীর নিচে বাঁধা সুন্নত।

    আর ইমাম শাফেয়ী (র.)এর মতে  বুকের নিচে এবং নাভীর উপরে উপরে হাত বাঁধা সুন্নত।

    ইমাম আহমদ (র.) থেকে তিনটি বর্ণনা রয়েছে। একটি ইমাম আবূ হানীফার মতের অনুরূপ, একটি ইমাম শাফেয়ীর মতের অনুরূপ এবং আরেকটি হচ্ছে উভয় পদ্ধতি অবলম্বনের এখতিয়ার আছে।

হানাফীগণের দলিল :

হযরত আলী (র.)-এর একটি আছার-

ان مـن الـسـنـة وضـع الـكـف عـلـى الـكـف فـى الـصـلـوة تـحـت الـسـرة

‘সুন্নত পদ্ধতি হচ্ছে, নামাজের মধ্যে নাভীর নিচে হাতের উপর হাত রাখা।’ মুসনাদে আহমদ ১/১১

আর হাদীসের মূলনীতিতে একথা স্বীকৃত যে, কোনো সাহাবী যেমন একটি আমলকে সুন্নত বলেন, তখন তা মারফূ‘ হাদীসের সমপর্যায়ের হয়।

দ্বিতীয় দলীল: হযরত ওয়ালের হাদীসটি: قـال رأيـت الـنـبـى صلي الله عليه وسلم  يـضـع يـمـيـنـه عـلـى شـمـالـه فـى الـصـلـوة تـحت الـسـرة ـ ‘আমি নবী করীম  (সা.)  -কে দেখেছি তিনি নামাজের মধ্যে নাভীর নিচে ডান হাতকে বাম হাতের উপর রাখেন।

(আছারুসুনান, আল্লামা শাওক নীমভী আজীমআবাদী, পৃ. ৬৯-৭১)


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.